উন্নত দেশ গড়তে হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে : ডিএসই চেয়ারম্যান

0

স্টকরিপোর্ট প্রতিবেদক : প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেছেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

গতকাল রোববার (১০ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অফ বিজনেস স্টাডিজের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মশালায় তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।শেয়ারবাজার কেন্দ্রিক একাডেমিক শিক্ষা সচেতনতামূলক ধারাবাহিক কর্মশালার অংশ হিসেবে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. কিউ. এম মাহবুব৷ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র কমিশনার মোঃ আব্দুল হালিম এবং ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু৷

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এবং ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান তন্ময় বর্মন, ফ্যাকালটি অব বিজনেজ স্টাডিজের ডিন ড. ইশিতা রায় এবং ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান ও বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অধাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইক্যুইটির পাশাপাশি নতুন পণ্যভিত্তিক বৈচিত্রময় বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে৷ একই সাথে আমাদের বিনিয়োগকারীদেরও বিনিয়োগ জ্ঞান বাড়াতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।

ডিএসই’র চেয়ারম্যান বলেন, গতিশীল শেয়ারবাজারের জন্য দরকার উন্নত তথ্য প্রযুক্তি, মানসম্পন্ন পণ্য, সুশাসন, দক্ষ জনশক্তি এবং শিক্ষিত ও সচেতন বিনিয়োগকারী৷ বর্তমানে ডিএসইতে বিশ্বখ্যাত নাসডাক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রেডিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে৷ এই শেয়ারবাজারের মাধ্যমেই দেশের ছোট বড় সব ধরনের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়৷

ড. হাসান বাবু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। আপনারা সকলেই অবগত আছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে যে চারটি স্তম্ভ রয়েছে এর মধ্যে স্মার্ট ইকোনমি হলো অন্যতম৷ আর স্মার্ট ইকোনমির অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো সমৃদ্ধ শেয়ারবাজার৷

তিনি বলেন, সমৃদ্ধ শেয়ারবাজারের জন্য প্রয়োজন শিক্ষিত ও সচেতন স্মার্ট বিনিয়োগকারী৷ তরুণরাই পারবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সাহসী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে নবদিগন্তে, এই অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে রাখার সাধ্য কারো নেই, ছাত্র সমাজকেই দেশের হাল ধরতে হবে।

ড. ইশিতা রায় বলেন, এই ধরনের সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট সম্পর্কে জানার অনেক বড় একটি সুযোগ। আজকের এই প্রোগামে যা জানা যাবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য যেমন কাজে আসবে, তেমনি ছাত্রছাত্রীদের জন্যও কাজে আসবে বলে আমি মনে করি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তারিকুজ্জামান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসই’র বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা বিএসইসি, ডিএসই এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আইওএসকোর কার্যক্রমের একটি অংশ‌। এতে করে আর্থিক বিনিয়োগের পরিবেশ ও সময় ইত্যাদি বিষয়ে জানা যায়৷ তাই আইওএসকোর সদস্য হিসেবে আমরা সারাদেশে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছি।

তিনি বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ দেশব্যাপী বিনিয়োগকারীদের সচেতন করার জন্য এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যাতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে ঝুঁকি এড়িয়ে জেনে বুঝে বিনিয়োগ করে। জনগনের দোরগোড়ায় ডিএসই’র সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধশালী এবং টেকসই শেয়ারবাজার বিনির্মাণে নিরন্তরকাজ করে যাচ্ছে ডিএসই৷

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার বিনিয়োগের একটি অন্যতম ভালো মাধ্যম। যখন আপনারা আয় করবেন এবং আপনাদের বিনিয়োগের জন্য অর্থ থাকবে তখন এখানে যেনে বুঝে বিনিয়োগ করতে পারেন। আমরা একটি বয়সের পর আর আয় করতে পারব না, তখন তাহলে কি করবেন। তাই ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে শেয়ারবাজার একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জায়গা। শেয়ারবাজারকে অনেকেই কাঁচাবাজার মনে করেন। যারা এখানে প্রতিদিন কেনা-বেচা করতে চান। কিন্তু এটা সেই জায়গা না‌। এখানে আপনার দৈনন্দিন ব্যয় বাদ দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। তাই শেয়ারবাজারে যদি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করা যায় তবে এখান থেকে রিটার্ন সম্ভব।

বিএসইসির এই কমিশনার বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে হবে। বুঝে শুনে শেয়ারবাজারে আসতে হবে। কারো কথায় প্ররোচিত হয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। যারা অন্যের কথায় উৎসাহিত হয়ে বাজারে বিনিয়োগ করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সকলকে সাথে নিয়ে দেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তবেই স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

প্রধান অতিথি ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, শেয়ারবাজার স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকে এই লিটারেসি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসরুমের বাইরেও অনেক কিছু শিখতে পারবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে৷ বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা অনেক মজবুত। একটি দেশের শেয়ারবাজার যতটা উন্নত, সে দেশের অর্থনীতি ততটা ভালো। একটি ভালো শেয়ারবাজার ছাড়া ২০৪১ সালের উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সেজন্য ডিএসইর আজকের এ আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নত বিশ্বে সবাই সবার সঙ্গে ব্যবসা করছে। যা থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের মেগা প্রকল্পগুলো শেয়ারবাজারে আসার জন্য অপেক্ষা করছে। এতে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের অনেক উন্নতি হবে। যে দেশ যত বেশি উন্নত, সে দেশে তত বেশি বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। যার একটি বাংলাদেশ, কারণ বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুবিধা দেয়া হয়। এতে বাংলাদেশের জিডিপি যেমন বাড়বে তেমনি মানুষের আয়ও বাড়বে‌। সুদৃড় অর্থনীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ধরে রাখতে হবে। আর এ জন্য ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি ও শেয়ারবাজার সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা খুবই জরুরি।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আল আমিন রহমান৷ মূল প্রবন্ধে তিনি শেয়ারবাজার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ও শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.